হাসপাতাল পরিচিতি

মাতৃসদন ও শিশু স্বাস্থ্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান (MCHTI) -এর ইতিহাসঃ

১৯৫৩: ইউনিসেফ (UNICEF) এবং ডব্লিউএইচও (WHO) এর যৌথ উদ্যোগে ২০ শয্যা বিশিষ্ট এমসিএইচটিআই-এর যাত্রা শুরু। মূল উদ্দেশ্য ছিল সীমিত আকারে মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবা প্রদান এবং নারী ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক উপযুক্ত নারী স্বাস্থ্য পরিদর্শিকা গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকান্ড চালু করা।

১৯৬০: প্রতিষ্ঠানটিকে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করা হয়।

১৯৯১: এমসিএইচটিআই-এর কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও উন্নত করার লক্ষ্যে জাপান সরকারের কাছে আবেদন এবং জাপান সরকার-এর এ বিষয়ে আশ্বাস প্রদান।

১৯৯৭: এমসিএইচটিআই ডব্লিউএইচও (WHO) এবং ইউনিসেফ (UNICEF) কর্তৃক
‘শিশু বান্ধব হাসপাতাল’ (Baby Friendly) হিসেবে মর্যাদা লাভ করে
ও সনদপ্রাপ্ত হয়।

১৯৯৮: বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সূচনা।

১৯৯৯: ‘হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইন রিপ্রোডাকটিভ হেলথ’ (HRDRH) র্শীষক প্রকল্প এই হাসপাতালে কারিগরি সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে ৫ বছর মেয়াদী কার্যক্রম গ্রহণ করে।

২০০০: হাসপাতালটির সংস্কার কার্যক্রম সম্পাদিত হয় এবং ১০০ শয্যাকে ১৭৩ এ উন্নীত করে একটি আধুনিক হাসপাতালের জন্ম হয়। বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীদ্বয় এই হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন।

বর্তমানে এমসিএইচটিআই-এ নিম্নলিখিত কার্যক্রম নিশ্চিত করতে নারী বান্ধব হাসপাতাল গঠনের উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে।
১) মানসম্মত সেবা প্রদান।
২) ‘মা-শিশু প্যাকেজ’ ডেলিভারী।
৩) ‘নারীর প্রতি সহিংসতা’ Violence against Women (VAW) বা নারী নির্যাতনের
বিরুদ্ধে সোচ্চার বা ব্যবস্থা নেয়া।
৪) নারীর জন্য যথাযথ সম্পদের বরাদ্দসহ স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমতা আনয়ন।

লক্ষ্য:
• মাতৃ মৃত্যু হার কমানো।
• শিশু মৃত্যু হার কমানো।
• পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানে মডেল সেন্টার হিসেবে কাজ করা।
• মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সেবা প্রদানে টারশিয়ারী রেফারেল সেন্টার (Tertiary Referral Center) হিসেবে কাজ করা।
• হাসপাতালটিকে ‘শিশু ও নারী বান্ধব’ হাসপাতাল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
• মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানে এটিকে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে অর্জন:
‘হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইন রিপ্রোডাকটিভ হেলথ’(HRDRH) প্রজেক্ট চলাকলীন সময়ে (১৯৯৯-২০০৪) এমসিএইচটিআই চিকিৎসা প্রদান ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি সাধন করে। আধুনিক ক্লিনিক্যাল যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল-এর সমন্বয়ে ২৪ ঘন্টা ৭ দিন (২৪/৭) উন্নত চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হয়েছে। সেবাগ্রহীতাদের পরিসংখ্যান থেকে এই হাসপাতালটির প্রদেয় সেবা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়।

হাসপাতালটির শয্যা বিন্যাস:
শয্যা সংখ্যা – ১৭৩
• অবস্ এন্ড গাইনী বিভাগ – ১১৬
ক. অবস্টেট্রিকস: ৯৮
খ. গাইনীকোলজি: ১৮

• শিশু বিভাগ – ৫৭
ক. নিওন্যাটাল ওয়ার্ড: ২০
খ. পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ড: ৩৭

• পোষ্ট অপারেটিভ ওয়ার্ড: ১২